Posts

কলকাতা মানেই লুচি আলুর দম, আর তার সাথে আড্ডা!

Image
  কলকাতা শহরে, লুচি আলুর দম ছাড়া রবিবার অসম্পূর্ণ। উত্তর কলকাতার লুচি আলুর দম-এর ইতিহাস বেশ পুরনো এবং এটি এই অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় প্রাতঃরাশ বা জলখাবার। লুচি হল ময়দা দিয়ে তৈরি একটি ভাজা রুটি এবং আলুর দম হল মশলাদার আলুর একটি পদ। এই দুটি খাবারের সংমিশ্রণ উত্তর কলকাতার মানুষের কাছে খুবই প্রিয়।  উত্তর কলকাতায় লুচি ও আলুর দম বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বহু বাড়িতেই এটি রবিবার বা বিশেষ দিনে প্রাতঃরাশের জন্য তৈরি করা হয়।  "বাঙালীর লুচি-আলুর দম" একটি জনপ্রিয় জুটি, যা বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।  বিভিন্ন রেস্তোরাঁ এবং রাস্তার ধারের দোকানেও এই খাবারটি পাওয়া যায়, যা এই জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ।  আলুর দম একটি মশলাদার আলুর পদ যা সাধারণত ছোট আলু দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি প্রথমে ভেজে নিয়ে পরে মশলার সাথে কষিয়ে রান্না করা হয়। এই পদটি পর্তুগিজদের মাধ্যমে ভারতে আসে এবং পরে বাঙালিরা তাদের রান্নার ধরনে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করে। 

বিকেলের আড্ডায়, ঘুগনি চাই-ই চাই...

Image
  ঘুগনি যেন উত্তর কলকাতার অলিখিত নিয়ম... এই ঘুগনি দেখলে কার না জিভে জল আসে! উত্তর কলকাতার ঘুগনি একটি জনপ্রিয় খাবার এবং এর একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। এটি মূলত শুকনো হলুদ মটর, আলু এবং মশলা দিয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। ঘুগনি উত্তর কলকাতার রাস্তার খাবারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বিভিন্ন দোকানে এটি পরিবেশন করা হয়।  ঘুগনি মূলত একটি ভারতীয় উপমহাদেশের খাবার, যা বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতে (পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা) এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে (আসাম, ত্রিপুরা) জনপ্রিয়।  এটি সম্ভবত উত্তর ভারতীয় অভিবাসীদের মাধ্যমে কলকাতায় আসে।  কলকাতার রাস্তার খাবার হিসেবে ঘুগনি একটি পরিচিত নাম।  কিছু দোকানে মাছের কচুরির সাথে পাঁঠার ঘুগনিও পরিবেশন করা হত, যা বেশ জনপ্রিয় ছিল।  বিভিন্ন দোকানে ঘুগনি পরিবেশন করা হয় এবং কিছু দোকানে এটি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিক্রি হচ্ছে।  এটি একটি সুস্বাদু এবং সস্তা খাবার যা বাঙালিরা খুব পছন্দ করে। ঘুগনি সন্ধ্যাকালীন নাস্তা, ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয়, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতে (ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ), উত্ত...

কলকাতার স্ট্রিট ফুড মানেই পাও ভাজি

Image
  কলকাতার পাও ভাজি'র ইতিহাস মূলত মুম্বাই থেকে আসা একটি জনপ্রিয় রাস্তার খাবার হিসেবে পরিচিত। এটি একটি মশলাদার সবজি তরকারি (ভাজি) যা নরম পাউরুটির সাথে পরিবেশন করা হয়। মুম্বাইয়ের টেক্সটাইল মিল শ্রমিকদের জন্য হালকা খাবারের চাহিদা থেকে এই খাবারের উৎপত্তি হয়েছিল, যা পরে সারা ভারতে জনপ্রিয়তা লাভ করে। কলকাতার প্রেক্ষাপটে, পাও ভাজি একটি জনপ্রিয় রাস্তার খাবার হিসাবে পরিচিত, যা বিভিন্ন ফাস্ট ফুড স্টল এবং রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায়। এটি মুম্বাই থেকে কলকাতায়  আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। কলকাতার আগমন: পাও ভাজি মুম্বাই থেকে কলকাতায় আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।  পাও ভাজি মূলত মুম্বাইয়ের রাস্তার খাবার, যা ১৮৫০-এর দশকে মিল শ্রমিকদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।  শ্রমিকরা তাদের দুপুরের খাবারের বিরতিতে দ্রুত এবং হালকা খাবার হিসেবে এটি গ্রহণ করত।  কলকাতার বিভিন্ন ফাস্ট ফুড স্টল ও রেস্তোরাঁয় এটি একটি জনপ্রিয় খাবার। সুতরাং, কলকাতার পাও ভাজি একটি জনপ্রিয় খাবার যা মুম্বাই থেকে এসেছে এবং সময়ের সাথে সাথে স্থানীয় স্বাদের সাথে মিশে গেছে।...

কাটি রোল - উত্তর কলকাতার একটি অংশ

Image
  কাটি রোল শুধু খাবার নয়, অভিজ্ঞতা। এটি পুরানো কলকাতার স্বাদ। উত্তর কলকাতার কাঠি রোলের ইতিহাস বেশ আকর্ষণীয়। এটি মূলত কলকাতার একটি জনপ্রিয় রাস্তার খাবার যা নিজাম রেস্তোরাঁয় (Nizam's Restaurant) শুরু হয়েছিল। ধারণা করা হয়, ব্রিটিশ আমলে এখানকার অফিসাররা কাবাব হাতে খেতে অস্বস্তি বোধ করতেন, তাই নিজামের কর্মীরা কাবাব একটি পরোটার মধ্যে মুড়িয়ে পরিবেশন করা শুরু করেন, যা থেকেই কাঠি রোলের জন্ম।  কাঠি রোল প্রথম তৈরি হয় কলকাতার নিজাম রেস্তোরাঁয়, যা ১৯৩২ সালে রাজা হাসান সাহেব প্রতিষ্ঠা করেন। আগে কাবাব এবং পরোটা আলাদাভাবে বিক্রি হতো, কিন্তু ব্রিটিশরা কাবাব পরোটার মধ্যে মুড়িয়ে খেতে পছন্দ করত।  নিজামের কর্মীরা এই ধারণা থেকে কাবাব ও পরোটাকে একত্রিত করে কাঠি রোলের উদ্ভাবন করেন। ধীরে ধীরে এটি কলকাতার জনপ্রিয় খাবারে পরিণত হয় এবং আজও এর চাহিদা ব্যাপক। 

"ঠান্ডা হাওয়ায় গরম চপ, আর কী চাই!"

Image
চপ-কাটলেট উত্তর কলকাতার এক সাবেকি স্বাদ কলকাতা শহর যেন চপ-কাটলেটের মায়াজালে বাঁধা.. তবে শুধু খেলেই হবে না, চপ-কাটলেটের ইতিহাসও জানতে হবে। কলকাতার চপ ও কাটলেটের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ এবং এটি শহরের খাদ্য সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খাবারের উদ্ভব এবং জনপ্রিয়তা মূলত ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব, স্থানীয় উপকরণ এবং ভোজনরসিক বাঙালির সংস্কৃতির সংমিশ্রণে হয়েছে। " চপ " শব্দটি মূলত ফরাসি শব্দ "chop" থেকে এসেছে, যা মাংসের একটি পদকে বোঝায়। তবে, কলকাতায় "চপ" বলতে সাধারণত সবজি, মাছ বা মাংসের কিমা দিয়ে তৈরি একটি ভাজা খাবার বোঝায়, যা ময়দা বা বেসন দিয়ে প্রলেপ দিয়ে ভাজা হয়। আলুর চপ, মাছের চপ, ডিমের চপ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের চপ কলকাতার জনপ্রিয় খাবার।  " কাটলেট " শব্দটি এসেছে ইংরেজি শব্দ "cutlet" থেকে, যা মাংসের পাতলা টুকরা ভাজা বা গ্রিল করা একটি খাবার। কলকাতায় কাটলেটও বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে, যেমন- মাংসের কাটলেট, ভেজিটেবল কাটলেট, ফিশ কাটলেট ইত্যাদি।  কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলের তেলেভাজার দোকানে চপ ও কাটলেট পাওয়া যায়। এদের মধ্যে কিছু দোকান তাদের ঐ...

কলকাতার ফুচকা মানেই জিভে জল আনা টক-ঝাল-মিষ্টির কম্বিনেশন

Image
  কলকাতা আর ফুচকা, এ যেন প্রেম।....   বৃষ্টির দিনে এক প্লেট ফুচকা, আর কি চাই?" আচ্ছা, ফুচকা হলো কলকাতার স্ট্রিট ফুডের প্রাণরেখা। ছোট ছোট তুলতুলে, ক্রিস্পি স্টাফড রাউন্ডেলের জন্য আমরা বেঁচে থাকি। আর আমার মতে, প্রতিটি ফুচকাওয়ালা যেকোনো ম্যানেজমেন্ট স্নাতককে গ্রাহক সেবার জন্য এক বা দুটি জিনিস দিতে পারে। দয়া করে এমন একটি পরিস্থিতির কথা ভাবুন যেখানে একজন ফুচকা বিক্রেতা ১০ জন গ্রাহককে পরিবেশন করছেন। দয়া করে বিশ্বাস করুন, তিনি একই উপকরণ দিয়ে কমপক্ষে ৫-৮ ধরণের স্বাদ তৈরি করবেন। স্বাদে এই ক্ষুদ্র পরিবর্তন, উপাদানে কিছু অদৃশ্য কৌশল এবং কে কোন মিশ্রণটি পছন্দ করে তা ঠিক মনে রাখা। এবং এই মিশ্রণটি পরবর্তী গ্রাহকদের জন্য পরিবর্তিত হবে। তাই, আপনি ব্যথা বুঝতে পারবেন। এখানে আমি আরও উল্লেখ করতে চাই যে যেকোনো ফুচকাওয়ালা সাধারণ ফুচকা ছাড়াও আরও কিছু খাবার তৈরি করবে। খুব একটা তুলতুলে না হওয়া ফুচকার বলগুলো গুঁড়ো করে মশলাদার আলুর মিশ্রণ দিয়ে মাখিয়ে কিছু মজাদার চুরমুর তৈরি করা হবে। এমনকি তেঁতুলের চাটনি এবং ধনে পাতা দিয়ে তৈরি আলু দমও যেকোনো ফুচকাওয়ালার কাছেই উপভোগ্য।  আচ্ছা, আমরা এটাকে ফুচক...

পুরনো স্বাদের কষা মাংস🍗

Image
পুরনো  স্বাদের কষা মাংস বলতে আমরা বুঝি উত্তর কলকাতার সেই পুরনো স্বাদ, আর যা মনে করিয়ে দেয় তাতে সাদা ভাত আর কষা কষা মাংস। ঝাল ঝাল কষা মাংস কলকাতা কষা মাংসের ইতিহাস মূলত একটি জনপ্রিয় খাবারের গল্প, যা উত্তর কলকাতার ভোজনরসিকদের কাছে আজও দারুণ জনপ্রিয়। এই মাংসের পদটি তার বিশেষ মশলাদার স্বাদ এবং ঘন ঝোলের জন্য পরিচিত। এর শিকড় অনেক পুরনো এবং গোলবাড়ি রেস্তোরাঁর সাথে এর নাম ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। এই পদটি বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অংশ, যা বিভিন্ন উৎসবে ও অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়। কষা মাংসের ধারণাটি সম্ভবত স্থানীয়ভাবে মশলাদার মাংস পরিবেশনের একটি প্রচেষ্টা থেকে এসেছে। গোলবাড়ির কষা মাংসের স্বাদ হল একটি খাঁটি বাঙালি মাংসের ঝোলের স্বাদ, যা পর্যটকদের কাছেও খুব প্রিয়। যদিও গোলবাড়ি এই পদের জন্য বিখ্যাত, কলকাতার অন্যান্য রেস্তোরাঁ ও বাড়িতেও কষা মাংস তৈরি করা হয়, তবে গোলবাড়ির স্বাদ এবং ঐতিহ্য আজও অটুট।  সুতরাং, কলকাতা কষা মাংস কেবল একটি খাবার নয়, এটি একটি ঐতিহ্য, যা শহরের সংস্কৃতি এবং ভোজনরসিকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে।